শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন Bengali Bengali English English
নোটিশ :
Wellcome to our website...
শেরপুরে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির দাবীতে ক্লাস বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট।
/ ৮২ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১, ৫:২৩ অপরাহ্ণ

মিজানুর রহমান মিলন, শেরপুরঃ

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির দাবীতে শেরপুরে ক্লাস বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।

২৪ ও ২৫ নভেম্বর দুইদিন ব্যাপি শেরপুর জেলার জমশেদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ও ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজসহ সারা বাংলাদেশের ৩১৫ টি কলেজে ক্লাস বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ক্লাস বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘ চলবে আগামীকাল ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

 

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের কার্যকরি সদস্য প্রভাষক মোঃ মুরছালিন বলেন,”জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্সে শতভাগ বৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ও বর্তমান কর্মরত প্রায় ৫৫০০ জন শিক্ষক ১৯৮৩ সাল হতে অদ্যাবধি কলেজ হতে কোন বেতন ভাতা পান না। কোন কোন কলেজ মাসে ৪/৫ হাজার টাকা বেতন দেয়। এমপিও ব্যাতিত আমরা অল্প বেতনে চলতে পারি না।”

 

ফেডারেশনের শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রভাষক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,”১৯৯৩ সাল হতে অনার্স কোর্স চালু হয়ে আজ প্রায় ৩০ বছর হয়ে গেল সরকার কোন শিক্ষকদের দায় দায়িত্ব নিল না। জনবলকাঠামো তিন তিনবার সংশোধন করা হলো তবুও অন্তর্ভুক্ত করা হলো না, যা সত্যিই বেদনা দায়ক ও অমানবিক। ”

প্রভাষক সুলতানা পারভীন বলেন,”বেতনবিহীন চাকরি কি যে যন্ত্রণার তা, ভুক্তভূগিরাই জানেন, কি যাতনা কিসে! বুঝেবে সে কিসে! কভু আশি বিষে দংশেনি যারে।”

প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া বলেন,

“মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একাধিকবার এমপিওভুক্তির আবেদন, স্মারকলিপি দেয়ার পরও অদৃশ্য কারণে আজও কোন সুরাহা হয়নি, যা আশ্চার্যজনক ও রহস্যময়। ”

 

অথচ শিক্ষরা যেকোন মানদন্ডে তারা এমপিওভুক্ত হওয়ার হকদার বা অধিকার রাখে।

যেমন- ১) প্রথমে যদি বলেন যোগ্যতার কথা, কোন শিক্ষকের তার শিক্ষা জীবনে ৩য় শ্রেণি বা ৩য় গ্রেড নেই, প্রত্যেকেই NTRCA কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত।

২) সরকারি সকল নিয়মনীতি মেনে বৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত।

৩) একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজের অনার্স কোর্সের শিক্ষকরা আত্নীকরণ প্রক্রিয়াধীন। যা জন নেত্রী শেখ হাছিনা সরকারের সাফল্যে একধাপ।

৪) ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির ০৮ অধ্যায়ের ০৬ কৌশল মোতাবেক জনবলকাঠামতে অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও পাওয়ার অধিকার রাখে, যা সরকার ইচ্ছা করলেই করতে পারেন।

৫) জাতীয় সংসদের শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির একাধিকবার এমপিওভুক্ত করণের সুপারিশ করা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় রহস্যজনক ভাবে বাস্তবায়ন করছেন না।

৬) বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ কর্তৃক প্রধান মন্ত্রী বরাবরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্তির বিষয়ে পর পর তিন তিনটি পত্র মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় হতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরে ইস্যু করা হয়, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! অদৃশ্য কারণে সেই সব চিঠির কোন মূল্যায়ন বা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

৭) সুনাম ধন্য অনেক শিক্ষক সংগঠনসহ রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের জনগণ চায় “বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু থাকুক এবং শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হউক।

৮) সম্প্রতি ৫ জন মাননীয় সংসদ সদস্য মহান জাতীয় সংসদে বেসরকারি কলেজের বেতন বৈষম্য তুলে ধরে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জোর দাবি জানান। মাননীয় কি কারণে এতোগুলো যৌক্তিক কারণ থাকার পরেও নিষ্ঠুরতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী নিরব থাকছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

৯) সুসভ্য জাতি গঠনে বেসরকারি কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা অনন্য ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে।

১০) মাদ্রাসা শিক্ষায় কামিলকে মাস্টার্সের মান দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চালু রাখা হয়েছে এবং এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে এবং কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বা আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে মাদ্রাসায় অনার্স কোর্সের শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন শুধু হতভাগা সাধারণ শিক্ষার বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্সের শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির সুযোগ পান না।

১১) একই প্রতিষ্ঠানে একই পদে কেহ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পান আর কেহ ফরিকের মতো দারে দারে, রাজপথে ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এ কেমন স্বাধীন দেশ! সুষম সাম্যনীতির বাংলাদেশ! এমন দেশ কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন? কখনো চাননি।

 

অনার্স মাস্টার্সের শিক্ষকরা দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধির কারণে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। না পারতেছে জীবন বিসর্জন দিতে! পরিবারের কাছে, ছেলে মেয়েদের কাছে মুল্যহীন হয়ে আছেন, মহা আপদে পরিণত হয়েছেন। অনেক অবিবাহিত শিক্ষকের বিবাহ শাদী হচ্ছে না, অথচ বয়স বেড়েই চলছে। বৃদ্ধ পিতামাতাকে ঈদ/ পুজা পর্বেও একটি লঙ্গি বা শাড়ী কিনে দিতে পারে না, অথচ শিক্ষিত সন্তান চাকুরিজীবী! হায় আফসোস! হায় দূর্ভাগা সন্তান! বেতনবিহীন অনেক শিক্ষক হতাশায় দুঃচিন্তায় ফিরে না আসার জগতে চলেগেছেন, কেহ মর্মব্যথা, চোখের জল নিয়ে অবসরে গেছেন- যাচ্ছেন। এভাবে আর কত দিন! চোখের জলে ভেসে বেড়াতে হবে? সইতে হবে কাঁদতে হবে নিরবে নিরব কান্না!!!

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১